• ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Governor House

কলকাতা

মমতাকে রাজভবনে আমন্ত্রণ ধনখড়ের

রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আগেও প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। আর এবার সেই ইস্যুতে কথা বলতেই সরাসরি রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানালেন রাজ্যপাল। বগটুই-কাণ্ডের পর নতুন করে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। রামপুরহাটের ওই হত্যাকাণ্ডের পর ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছেন রাজ্যপাল। আর তারপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠালেন তিনি। মঙ্গলবার পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, যাতে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই রাজ ভবনে আসেন মমতা।এবারই প্রথম নয়, আগেই রাজভবনে ডাকা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। তবে এবার, এই আমন্ত্রণ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সোমবার সকালেই দিল্লিতে শাহের সঙ্গে জগদীপ ধনখড়ের দীর্ঘ বৈঠক হয়। কী ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি কেউই। তবে, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে আলোচনার বিষয় ছিল, তা অনুমান-যোগ্য। সম্ভবত, রাজ্য পুলিশের ভূমিকার কথাও বলেছেন রাজ্যপাল। বোমা-বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দেওয়ার পরই যে ভাবে তৎপরতা শুরু হয়েছে, তা আলোচনায় উঠেছিল বলে সূত্রের খবর। আর এবার মমতার মুখোমুখি হতে চান রাজ্যপাল।

মার্চ ২৯, ২০২২
দেশ

রুশ বোমায় খারকিভে মৃত্যু ভারতীয় ছাত্রের, রুশ ও ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়াদিল্লির

ইউক্রেনে রুশ হামলার মুখে পড়ে নিহত ভারতীয় পড়ুয়া। মঙ্গলবার খারকিভে বোমা বিস্ফোরণের ফলে এই ভারতীয় পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইতিমধ্যেই এই কথা জানিয়েছেন। এই পড়ুয়া উত্তর কর্নাটকের বাসিন্দা। মৃত ছাত্রের নাম নবীন শেখারাপ্পা জ্ঞানগউধর। নবীন মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে দোকানের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন নবীন। সেই মুহূর্তেই ওই জায়গায় আছড়ে পড়ে রুশ বোমা। এর ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়।বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি একটি টুইট বার্তায় জানান, গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আজ সকালে খারকিভে বিস্ফোরণের ফলে একজন ভারতীয় পড়ুয়া প্রাণ হারিয়েছে। মন্ত্রণালয় তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আমরা পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা জানাই। টুইট করে শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।With profound sorrow we confirm that an Indian student lost his life in shelling in Kharkiv this morning. The Ministry is in touch with his family.We convey our deepest condolences to the family. Arindam Bagchi (@MEAIndia) March 1, 2022 রুশ বাহিনীর বোমাবর্ষণে ভারতীয় ডাক্তারি পড়ুয়া নবীন শেখারাপ্পা জ্ঞানগউধরের মৃত্যুর পরই কূটনৈতিক সক্রিয়তা শুরু করল নরেন্দ্র মোদি সরকার। মঙ্গলবার বিকেলে নয়াদিল্লির রুশ এবং ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে বলে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে টুইট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।Deeply anguished that an Indian student, Naveen Gyanagoudar, has lost his life today in shelling in Kharkiv, Ukraine.My heartfelt condolences to his family and friends. Such tragedies numb us. Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 1, 2022বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, অবিলম্বে খারকিভ-সহ বিভিন্ন শহরে আটকে পড়া ভারতীয়দের ইউক্রেনের বাইরে যাওয়ার জন্য নিরাপদ পথ (সেফ প্যাসেজ) দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে যুধুধান দুই পক্ষকে। বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিঙলা পৃথক ভাবে রুশ এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করে এই বার্তা দেন।বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি টুইটারে লিখেছেন, খারকিভ-সহ যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরগুলিতে যে ভারতীয় নাগরিকেরা আটকে পড়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে নিরাপদ নিষ্কাশনের পথ দিতে বিদেশ সচিব ফের রাশিয়া এবং ইউক্রনের রাষ্ট্রদূতের কাছে দাবি জানিয়েছেন।মঙ্গলবার, যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে আক্রমণের অভিঘাত বাড়িয়েছে রুশ সেনা। মরণপণ প্রতিরোধ করছে ইউক্রেন ফৌজও। এই পরিস্থিতিতে সেখানে আটক ভারতীয়, বিশেষত পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নরেন্দ্র মোদী সরকার। নিহত নবীনের এক বন্ধু জানাচ্ছেন, খাবার আনতে বেরিয়ে ছিল তাঁর বন্ধু। বাকিরা হস্টেলে থাকলেও নবীন ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন। তাঁর ওই ফ্ল্যাটটি ঠিক গভর্নর হাউসের পিছনে। সেখানেই হামলা করেছে রুশ সেনা।

মার্চ ০১, ২০২২
কলকাতা

মুখ্যসচিবকে ফের তলব রাজ্যপালের

রাজ্যের মুখ্য সচিবকে ফের তলব করলেন রাজ্যপাল। আগামী সোমবার সকাল ১১ টার সময় তাঁকে রাজভবনে তলব করা হয়েছে। টুইট করে তাঁকে রাজভবনে তলব করেছেন রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। টুইটে রাজ্যপাল উল্লেখ করেছেন, গত ৭ ই জানুয়ারি নেতাইয়ে প্রবেশে বারবার বাধা দেয়া হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীকে। এর কারণ জানতেই তলব করা হল রাজ্যের মুখ্যসচিবকে।প্রসঙ্গত, গত ৭ ই জানুয়ারি ঝাড়গ্রামের নেতাইয়ে শহিদ দিবস পালনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঝিটকার জঙ্গলের কাছে পুলিশ তাঁর পথ রোধ করে। এরপর রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ পত্র পাঠিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তলব করা হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজিকে । তবে, তাঁরা কেউই উপস্থিত হননি।রাজভবনে না গিয়ে তাঁরা রাজ্যপালকে চিঠি লিখেছিলেন। সেখানে তাঁরা জানিয়েছিলেন, আধিকারিকদের মধ্যে অনেকেই করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছেন। এর সঙ্গে সঙ্গেই সে সময় একদিকে রাজ্যের পরিস্থিতির দেখভাল, অন্যদিকে গঙ্গাসাগর মেলার কাজে অনেকেই বিশেষ দায়িত্বে রয়েছেন। এ কারণে তাঁরা রাজভবনে যেতে পারছেন না। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে নেতাই নিয়ে রাজ্যপালের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হবে।এভাবে তলব অগ্রাহ্য করায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন রাজ্যপাল। রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজি কিভাবে বৈঠক বাতিল করলেন? তা নিয়ে হতবাক হয়েছিলেন রাজ্যপাল। এরপর আজ আবার রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীকে তলব করলেন রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। আগামী সোমবার সকাল ১১ টায় তাঁকে রাজভবনে তলব করা হয়েছে। রাজ্যপালের তলবের পর এবার রাজ্যের মুখ্যসচিব কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, সে দিকেই দৃষ্টি রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।

জানুয়ারি ২৯, ২০২২
কলকাতা

Plantation: মোদির জন্মদিনে রাজ্যপালের বৃক্ষরোপণ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭১তম জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গ বিজেপি এলাহি কর্মসূচির আয়োজন করেছে। শুক্রবার সকাল থেকেই দেশের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির তরফে নানা কর্মসূচি পালন চলছে। এরই মধ্যে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় সস্ত্রীক বৃক্ষরোপণ করেন রাজভবনের ভিতরেই। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধি করতেই এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন অ্যাসিস্যান্ট চিফ সেক্রেটারি সুনীল গুপ্তা। উল্লেখ্য, আজ প্রধানমন্ত্রীর ৭১ তম জন্মদিন। দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন। বারাণসী থেকে পশ্চিমবঙ্গ, সর্বত্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে সেবা ও সমর্পণ অভিযান পালন করবে বিজেপি শিবির। প্রতি বছর এক সপ্তাহের জন্য সেবা দিবসে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করা হয় গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে। এই বছর তা বাড়িয়ে টানা ২০ দিনের মেগা কর্মসূচিতে দেশজুড়ে কোমর বেঁধে নামছে বিজেপি নেতৃত্ব। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে কর্মসূচি।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১
কলকাতা

Mamata-Dhankhar: নবান্ন ফেরত হঠাৎ রাজভবনে মমতা

বুধবার ফের একবার রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে দেখা করতে রাজভবনে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন নবান্ন থেকে ফেরার পথে হঠাৎই রাজভবনে ঢুকে যান মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, রাজ্যপালের সঙ্গে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে তিনি রাজভবনে এই সফর করছেন। যদিও ঠিক কী নিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক এবং সাংবিধানিক প্রধানের আলোচনা হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় কাটিয়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বেরিয়ে আসেন মমতা।আরও পড়ুনঃ আবার লালহলুদে ভাঙন, ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে পুরনো ক্লাবে ব্রাইট সূত্রের খবর, রাজ্যে বিধান পরিষদ তৈরি করতে চেয়ে রাজ্য সরকার যেহেতু সক্রিয়তা দেখাচ্ছে, ফলে সেই বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়ে থাকতে পারে দুজনের মধ্যে। বুধবার নবান্নে করোনা বিধি সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বেরিয়ে সোজা রাজভবনের দিকে ঘুরে যায় তাঁর গাড়ির চাকা। সূত্রের খবর, এ দিন পৌনে ৪ টে নাগাদ রাজভবনে ঢোকেন মমতা। সূত্রের খবর, ভোট পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গেও রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীর সামনে মুখ খুলতে পারেন। এ ছাড়াও বিধানসভায় মুকুল রায়কে পিএসি চেয়ারম্যান করার প্রতিবাদে গতকালই রাজভবনে গিয়ে নালিশ জানিয়ে এসেছিলেন শুভেন্দু অধিকারীরা। সেই নিয়েও মমতা ধনখড়ের আলোচনা হয়ে থাকতে পারে।

জুলাই ১৪, ২০২১
রাজনীতি

Suvendu-Dhankhar: হিংসা নিয়ে রাজ্যপালকে নালিশ শুভেন্দুর

চারদিনের দিল্লি সফর সেরে শনিবারই কলকাতায় ফিরেছেন রাজ্যপাল জনগদীপ ধনখড়। আর রবিবার বিকেলেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে রাজভবনে পৌঁছে গেলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এদিন সন্ধেয় উভয়ের সাক্ষাৎ হয়। শুভেন্দু তাঁকে ফের রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে নালিশ জানান বলে টুইটে জানিয়েছেন ধনখড় (Jagdeep Dhankhar)। ইতিমধ্যেইএই একই ইস্যুতে বেশ কয়েককবার তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন শুভেন্দু। রাজ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাজ্যপালকে হস্তক্ষেপের আবেদন তিনি জানিয়েছেন, সূত্রের খবর এমনই।LOP alleged complicity of state machinery @WBPolice @KolkataPolice in perpetration of gruesome violations of human rights. In barbaric and dastardly criminal acts there has been no investigation, much less arrest of culprits @MamataOfficial. pic.twitter.com/zRf3AKB9US Governor West Bengal Jagdeep Dhankhar (@jdhankhar1) June 20, 2021কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর (Amit Shah) সঙ্গে জোড়া বৈঠক সেরে দিল্লি থেকে শনিবার ফিরেছেন রাজ্যপাল। এমনিতেই ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ধনকড়ের সঙ্গে অমিত শাহর বৈঠক নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ঠিক কী বিষয়ে কথা হয়েছে উভয়ের, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। ধনখড় নিজেই জানিয়েছেন, রাজ্যের ভোট পরবর্তী (Post Poll Violence) পরিস্থিতি নিয়ে তিনি চিন্তিত। সে কথাই প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। এরপর তিনি সোমবার আবার এক সপ্তাহের জন্য চলে যাচ্ছেন উত্তরবঙ্গ সফরে। তাই রবিবার সন্ধেবেলায় তড়িঘড়ি সময় চেয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিষয় একটাই রাজ্যের ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসা পরিস্থিতি। বিরোধী দলনেতা হিসেবে তা নিয়ে এই মুহূর্তে বেশ উদ্বিগ্ন শুভেন্দু। রাজ্য সরকার শান্তিরক্ষায় ব্যর্থ, এই অভিযোগ তুলে তিনি রাজ্যপালকেই এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন।Unrelenting pursuit of justice for the opposition workers affected by the post poll violence. Met Honourable Governor @jdhankhar1 to further discuss the ways to put an end to it.#PoschimbongoDibos pic.twitter.com/KG9yv4Ws0U Suvendu Adhikari শুভেন্দু অধিকারী (@SuvenduWB) June 20, 2021আরও পড়ুনঃ খুনের আগে অপহরণের নাটক, আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেপ্তার আসিফের দুই বন্ধুরবিবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, এই মুহূর্তে রাজ্যের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েই চলেছে। বিরোধী দলের কর্মী, সমর্থকদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়ে জেলবন্দি করা হচ্ছে। নতুন সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর এর চেয়ে খারাপ পরিস্থিতি আগে কখনও হয়নি পশ্চিমবঙ্গে, একথাও মনে করেন শুভেন্দু অধিকারী।

জুন ২০, ২০২১
কলকাতা

Suvendu Adhikari: একাধিক ইস্যু নিয়ে আজ রাজভবনে যাচ্ছেন বিজেপি বিধায়করা

বিজেপি বিধায়করা আজ বিকেলে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের (Governor Jagdeep Dhankhar) সঙ্গে দেখা করবেন। সূত্রের খবর, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে (Suvendu Adhikari) সঙ্গে রাজভবনে যাবেন বিজেপি বিধায়করা। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও করোনা টিকা দুর্নীতিকরণ নিয়ে আলোচনা করবেন বিজেপি বিধায়করা।এর আগেও রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর আচমকাই রাতারাতি শুভেন্দু অধিকারীকে তলব করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। গত সোমবার দিল্লিতে যান শুভেন্দু অধিকারী। দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে। দিল্লিতে অমিত শাহের বাসভবনে প্রায় ১৫ মিনিট বৈঠক করেন তিনি। সেখানে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনা করেন।তারপর দিনই দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। সেখানেই রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। এরপর আবার অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এরপর বাংলায় ফিরে আসেন। উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে, রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ডাকা হয় তিন সাংসদ- নিশীথ প্রামাণিক, অর্জুন সিং ও সৌমিত্র খাঁকেও। তাঁদের সঙ্গে এবিষয়ে আলোচনা করা হয়। আজ, রাজ্যপালের সঙ্গে এই পরিস্থিতি নিয়েই বৈঠক করবেন বিজেপি বিধায়করা। তবে নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে যেভাবে দলবদলের হিড়িক পড়েছে, তাতে এদিনের বৈঠকের যথেষ্ট রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জুন ১৪, ২০২১
কলকাতা

কোভিড আবহে ৭ মিনিটেই শেষ ৪৩ মন্ত্রীর শপথ

তৃতীয়বার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় তৃণমূল সরকার। নন্দীগ্রাম থেকে কয়েকশো ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার নিজের মন্ত্রিসভা সাজিয়ে নেওয়ার পালা। রবিবারই সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা প্রকাশ করেছেন তিনি। ১৬ নতুন মুখ-সহ মোট ৪৩ জন মন্ত্রীর শপথগ্রহণ হল আজ রাজভবনে। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে তৈরি নয়া মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।করোনা আক্রান্ত ব্রাত্য বসু রয়েছেন আইসোলেশনে। রাজভবনে নয়, ভার্চুয়াল মাধ্যমে তিনি শপথ নেন। একইভাবে শপথ নেস আরও দুই মন্ত্রী অমিত মিত্র, রথীন ঘোষ। অসুস্থতার কারণে এই সিদ্ধান্ত। রাজ্যপাল জগদীর ধনকড় সবাইকে শপথবাক্য পাঠ করান থ্রোন রুমে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনে পৌঁছলে শপথের আগে তাঁকে প্রণাম করে আশীর্বাদ নিলেন বেশ কয়েকজন। কোভিড সকলে মেনে চলো, শপথ নিয়ে কেউ প্রণাম করতে এসো না, বললেন মুখ্যমন্ত্রী।এরপর শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে শেষ মুহূর্তে আলোচনা সেরে নেন মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব ও বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর পূর্ণমন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদে কে কে শপথ নেবেন, তার তালিকা পড়েন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং প্রতিমন্ত্রীদের একইসঙ্গে শপথ পড়ান রাজ্যপাল। নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে শপথ নিলেন তাঁরা। কোভিড আবহে অতি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান হয় এদিন। এতদিনের রীতি মেনেরাজ্যপালের পাশে দাঁড়িয়ে শপথ গ্রহণ করা হলনা এবার। ৭ মিনিটে ৪৩ জনের শপথ পর্ব শেষ হয়। অনুষ্ঠান শেষে একান্তে কথা বলেন রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী।

মে ১০, ২০২১
রাজনীতি

মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই কোভিড মোকাবিলা ও রাজ্যে হিংসা বন্ধের আবেদন মমতার

বুধবার রাজভবনে তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করে উঠেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, তাঁর প্রথম কাজ হবে রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। শপথ নেওয়ার পরে নবান্নে গিয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন মমতা।রাজভবনে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করালেন রাজ্যপাল। আগামী ৫ বছর মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকার মানুষের হয়ে, মানুষের জন্য কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোভিড পরিস্থিতিতে বর্ণাঢ্য নয়, বরং একেবারে অনাড়ম্বরেই হয়ে গেল শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। সর্বসাকুল্যে অতিথি ছিলেন ৫০ জন। ছিলেন না সিপিএম, বিজেপির কোনও প্রতিনিধি।রাজ্যপালের থেকে শপথ বাক্য পাঠ করার পরে মমতা বলেন, তাঁর সরকারের প্রথম কাজ রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা। রাজভবন থেকে সরাসরি নবান্নে গিয়ে বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ বৈঠকে বসবেন তিনি। সেখানেই রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। তার পর দুপুর ৩টের সময় সাংবাদিক বৈঠক করবেন মমতা। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেই বিষয়ে সবাইকে জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে গত রবিবার নির্বাচনের ফল পরিষ্কার হতেই কালীঘাটে সাংবাদিকদের সামনে মমতা বলেছিলেন, তাঁর প্রথম কাজ হবে করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করা। শপথ নেওয়ার পরেও সেই একই কথা শোনা গেল তাঁর মুখে।এদিন রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী হিংসা নিয়েও বলতে শোনা যায় তাঁকে। গত ৩ মাস রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিল নির্বাচন কমিশন। এবার তিনি দায়িত্ব হাতে নিয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সামলাবেন বলেও জানান। এমনকী, যারা এই হিংসা ছড়ানোর কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলোকেও রাজনৈতিক হিংসা থেকে বিরত থাকার আবেদন করেন। সমস্ত পাশাপাশি প্রতিহিংসাবশবর্তী হয়ে কোনও কাজ না করার আবেদনও করেন। এরপর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়।

মে ০৫, ২০২১
কলকাতা

পদত্যাগের করে কেঁদে ফেললেন রাজীব

মন্ত্রিসভা ছাড়ার কারণ বলতে গিয়ে প্রকাশ্যে কেঁদে ফেললেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন, আড়াই বছর আগেই পদত্যাগ করব ভেবেছিলাম। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী আটকেছিলেন। এবার ভগ্নহৃদয় নিয়েই দল ছাড়লাম। গত একমাস ধরে অনেক কিছু শুনেছি। তাই এই সিদ্ধান্ত।শুক্রবারই রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা করেন রাজীব। তারপর রাজভবনের বাইরে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন তিনি। মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও এখনও দল ছাড়েননি রাজীব। শুক্রবারের সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট করে দিলেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী। বললেন, আমাকে এত কাজ করতে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। মন্ত্রী না থেকেও মানুষের সেবা করা যায়। আমি সাধারণ কর্মী হিসেবেই কাজ করতে চাই। তবে এদিন দলের সতীর্থদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও।প্রাক্তন বনমন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে আরও একটু সৌজন্যতা আশা করেছিলাম। তিনি আরও জানান, আমার মনে অনেকদিন ধরেই ক্ষোভ-অভিমান জমছিল। সে কথা দলের বহু সতীর্থ এবং মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম। আর সহ্য করতে পারলাম না। তাই সরে দাঁড়ালাম। এদিকে,বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় অবস্থা। তৃণমূলের একাংশের মত, এই পদত্যাগ দলের কোনও ক্ষতি করবে না। আবার কারও মত, এভাবে রাজ্যের মন্ত্রীদের ইস্তফা দুর্ভাগ্যজনক। পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উনিই বলতে পারবেন, কেন ছাড়লেন। নিশ্চয়ই কোনও অসুবিধা হচ্ছিল। তবে আমি বলব, এটা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। একদিন তাঁরা ঠিক বুঝবেন। হাওড়ার বালির বিধায়ক বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন, এভাবে রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে একে একে সদস্যদের ইস্তফা দুর্ভাগ্যজনক। এতেই বোঝা যাচ্ছে, দলের একাংশে কতটা ঘুণ ধরেছে। আমি আগেই একথা বলেছিলাম। দলনেত্রী খুব যত্ন করে হাওড়ায় সংগঠন তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তা ভেঙে পড়ছে। অন্যদিকে, রাজ্যের আরেক মন্ত্রী অরূপ রায় রাজীবের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তেমন বিচলিত নন। তাঁর কথায়, দল কতদিন ধরে করছে? আমরা বহু আগে থেকে দল করছি। কেউ কেউ দলে নতুন যোগ দিয়ে, কাজ করার পরই যদি নানারকম বায়না, নালিশ করেন, তাহলে মুশকিল। যা হওয়ার তাই হয়েছে। এতে দলের কোনও ক্ষতি নেই। দল ঐক্যবদ্ধই রয়েছে।

জানুয়ারি ২২, ২০২১

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

উত্তমের ‘অমৃতকাল’ ফেরানোর অঙ্গীকার, বাংলা ছবির জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দরজা

একটা সময় ছিল, বাংলা সিনেমা শুধু বাংলার দর্শকের বিনোদন ছিল নাসারা দেশের চলচ্চিত্র মানচিত্রে তার ছিল আলাদা এক মর্যাদা। অভিনয়, গল্প, সঙ্গীত, নির্মাণসব মিলিয়ে বাংলা ছবির দিকে তাকিয়ে থাকত গোটা দেশ। আর সেই সোনালি সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর পর্দার উপস্থিতি, অভিনয়ের স্বাভাবিকতা এবং বাঙালির আবেগের সঙ্গে তাঁর অদ্ভুত সংযোগ বাংলা চলচ্চিত্রকে এনে দিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতা।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে সেই হারানো গৌরবের কথাই যেন নতুন করে সামনে এল। নন্দনের একতারা মুক্তমঞ্চে জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এল বাংলা সিনেমাকে ফের দেশের চলচ্চিত্রের প্রথম সারিতে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার। শুধু স্মৃতিচারণ নয়, প্রয়োজন হলে পরিকাঠামো, বাজেট এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিল রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, একসময় গোটা ভারতকে নেতৃত্ব দিত বাংলা সিনেমা। বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল টলিউডের। সেই জায়গায় আবার ফিরতে হবে। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের এই সন্ধ্যাকে তাই তিনি শুধু উদ্যাপনের মুহূর্ত হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন নতুন করে সংকল্প নেওয়ার সময় হিসেবেও। তাঁর বার্তাচলচ্চিত্রশিল্পের কী প্রয়োজন, কোথায় পরিকাঠামোর ঘাটতি, কী ধরনের সরকারি সহযোগিতা দরকার, এমনকি প্রয়োজনে বাজেট বরাদ্দ বা আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলেও সরকার তা বিবেচনা করবে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যেই যেন প্রতিধ্বনিত হল উত্তমকুমারের সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের সেই আত্মবিশ্বাস। যে সময়ে বাংলা ছবির অভিনেতা, পরিচালক, সঙ্গীতশিল্পী এবং কলাকুশলীদের কাজ দেশের সীমানা পেরিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছত, সেই পরিবেশই ফেরানোর ডাক উঠল জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে।অনুষ্ঠানের আবহও ছিল সেই স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলার মতো। দর্শকে পরিপূর্ণ নন্দন চত্বর। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে মিঠুন চক্রবর্তী, জিৎ। সঙ্গে সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের পরিচিত মুখ। প্রদীপ প্রজ্বলনের মুহূর্তে বিশাল পর্দায় ফুটে উঠল উত্তমকুমারের অভিনীত বিভিন্ন চরিত্র। নেপথ্যে ভেসে এল সন্ন্যাসী রাজার হরি ওম ধ্বনি। পর্দায় দেখা গেল মহানায়কের অবিস্মরণীয় দৃশ্য এবং সংলাপ। যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য সময় পিছিয়ে গেলফিরে এল উত্তমের সেই পর্দার জাদু।জন্মশতবর্ষের এই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে আগেই আলোচনা করেছিলেন। শিল্পীদের সম্মিলিত উপস্থিতির কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তাঁর মতে, উত্তমকুমার এমন এক নাম, যিনি প্রজন্মের বিভাজন মুছে সবাইকে একই জায়গায় এনে দাঁড় করাতে পারেন। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে এই মুহূর্তে একটাই পরিচয়উত্তমকুমারের উত্তরাধিকার বহন করা বাংলা চলচ্চিত্র।আর সেই জায়গাতেই অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেন মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবদার ছিল স্পষ্টদেশের অন্য রাজ্য থেকে যদি কোনও প্রযোজনা সংস্থা বা চলচ্চিত্র নির্মাতা কলকাতা কিংবা বাংলায় শুটিং করতে আসেন, তাঁদের উৎসাহ দিতে আর্থিক সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।মিঠুনের প্রস্তাব ছিল, বাইরে থেকে আসা ছবির ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ ভরতুকি দেওয়া হোক। তবে সরাসরি নগদ অর্থ নয়, করছাড় বা এই ধরনের সরকারি সুবিধার মাধ্যমে সেই সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতির ইঙ্গিত পেয়ে মিঠুন জানান, তাঁর আবদার মেনে নেওয়া হয়েছে।এই প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এল বাংলাকে চলচ্চিত্রের শুটিং গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা। শুধু বাংলা ভাষার ছবি নয়, দেশের অন্যান্য ভাষার বড় বাজেটের ছবিও যদি বাংলায় শুটিং করতে আসে, তাহলে স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলী থেকে শুরু করে প্রযুক্তিবিদ, স্টুডিয়ো, লোকেশন, পরিবহণ এবং অন্যান্য সহযোগী শিল্পসব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে।জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানের আর একটি বড় আকর্ষণ ছিল পদযাত্রা। নন্দন থেকে শুরু হওয়া সেই শোভাযাত্রায় সামনে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। নন্দন চত্বর ঘুরে পদযাত্রা পৌঁছয় বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম, জওহরলাল নেহরু রোড হয়ে রবীন্দ্রসদন মেট্রো স্টেশনের পাশ দিয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায়।সেই পদযাত্রায়ও যেন একসঙ্গে হাঁটল বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্ম। একটি ভিন্টেজ গাড়িতে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, চিরঞ্জিত, মমতাশঙ্কর, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক ও হরনাথ চক্রবর্তী। তাঁদের পিছনে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রাজ চক্রবর্তী, শুভশ্রী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী-সহ আরও অনেকে। শেষ সারিতে ছিলেন নতুন প্রজন্মের অভিনেতা ও কলাকুশলীরাহাতে উত্তমকুমারের ছবি-সহ প্ল্যাকার্ড।জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তেও ছিল নানা আয়োজন। আহিরীটোলা থেকে টালিগঞ্জ, ভবানীপুরের বিজলী প্রেক্ষাগৃহ থেকে কলকাতা জিপিওবিভিন্ন জায়গায় শ্রদ্ধা জানানো হয় মহানায়ককে। টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সামনে উত্তমকুমারের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ভবানীপুরে উদ্বোধন করা হয় তাঁর ২০ ফুটের পূর্ণাবয়ব কাটআউট। জিপিও-তে ভারতীয় ডাক বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশ করা হয় উত্তম-স্মরণে বিশেষ কভার।শুধু সরকারি অনুষ্ঠানেই থেমে থাকেনি স্মরণ। শিল্পীদের একাংশ উত্তমকুমারের বাড়িতেও পৌঁছে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। বাড়ির তরফে শিল্পীদের আপ্যায়নে ছিল লুচি, আলুর তরকারি এবং পায়েসযেন মহানায়কের জন্মদিনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাঙালির চিরপরিচিত ঘরোয়া আবেগেরই পুনরাবৃত্তি।জন্মশতবর্ষের পরবর্তী কর্মসূচিতেও থাকছে উত্তমকুমারকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ফিরে দেখার আয়োজন। রাজারহাটের নিউটাউনে উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নন্দনে সত্যজিৎ রায়ের নায়ক দিয়ে শুরু হবে উত্তমকুমারের ছবির বিশেষ উৎসব। শিশির মঞ্চে হবে নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার এবং অ্যাক্টিং অফ উত্তমকুমার শীর্ষক আলোচনা। রবীন্দ্রসদনে নাচ, গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাঙ্গীতিক শ্রদ্ধার্ঘ।তবে এই জন্মশতবর্ষের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো কোনও একটি অনুষ্ঠান নয়। বরং উত্তমকুমারের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হওয়া। কারণ মহানায়ককে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর ছবি দেখানো নয়তাঁর সময়ের বাংলা সিনেমার সৃষ্টিশীল সাহস, উৎকর্ষ এবং আত্মবিশ্বাসকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনা।একদিন যে বাংলা সিনেমা গোটা দেশের চলচ্চিত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল, সেই জায়গা পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়। প্রয়োজন ভালো গল্প, দক্ষ নির্মাতা, নতুন মুখ, আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং সবচেয়ে বড় কথাএকটি সুস্থ চলচ্চিত্র-পরিবেশ। সরকারি সহায়তার প্রতিশ্রুতি সেই পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই শেষ পর্যন্ত শুধু একজন মহান অভিনেতার শতবর্ষ উদ্যাপন হয়ে থাকল না। তাঁর নামকে সামনে রেখে বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো দিনগুলিকে ফিরে পাওয়ার একটি নতুন স্বপ্নও উচ্চারিত হল নন্দনের মঞ্চে।মহানায়ক হয়তো আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁর অভিনয়ের সেই সময়, বাংলা সিনেমার সেই গৌরবসেটুকু কি নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অঙ্গীকারই শোনা গেল।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

“তাঁকে দেখার পথ যে শেষ হয় না”—জন্মশতবর্ষের শুরুতেই স্মৃতির পর্দায় চিরউজ্জ্বল উত্তমকুমার

তাঁকে দেখার পথ যেন কোনওদিন শেষ হওয়ার নয়। তাঁর অভিনয় দেখেও যেন কোনওদিন আশ মেটে না। সময়ের স্রোত বদলেছে, বদলেছে সিনেমার ভাষা, বদলেছে দর্শকের রুচি ও প্রযুক্তিতবু বাঙালির হৃদয়ের পর্দায় এক নায়ক আজও একইরকম উজ্জ্বল। তিনি অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়বাঙালির চিরপরিচিত উত্তমকুমার। সম্ভবত বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম এবং শেষ ম্যাটিনি আইডল, যাঁকে ঘিরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলচ্চিত্রের আলোচনা চলতেই থাকবে।আজ থেকে শুরু হল সেই মহানায়কের জন্মশতবর্ষের পথচলা। আগামী এক বছর জুড়ে সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান, আলোচনা, প্রদর্শনী ও শ্রদ্ধার্ঘ্যে ফিরে ফিরে আসবেন উত্তমকুমার। তবে তাঁকে স্মরণ করার জন্য কোনও বিশেষ দিন বা শতবর্ষের প্রয়োজন হয় না। কারণ উত্তমকুমার বাঙালির কাছে শুধু একজন অভিনেতার নাম নন, তিনি এক বিস্ময়কর সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাএকটি সময়ের নাম, একটি আবেগের নাম।এই আবেগেরই অন্যরকম প্রকাশ দেখা গেল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। জন্মশতবর্ষের সূচনালগ্নে প্রাত্যহিক সমবেত সভায় ছাত্রছাত্রীদের সামনে উত্তমকুমারের শিল্পীসত্তা ও অভিনয়জীবন নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়।তিনি মনে করিয়ে দেন, উত্তমকুমারকে শুধুমাত্র প্রেমিক নায়ক হিসেবে দেখলে তাঁর অভিনয়-প্রতিভার বিশালতাকে ছোট করে দেখা হয়। রোম্যান্টিক নায়কের পরিচিত ছকের বাইরে গিয়ে ভৃত্য, দেশপ্রেমিক, খলনায়কবিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করেছিলেন তিনি। চরিত্রের প্রয়োজনে কখনও কোমল, কখনও কঠিন, কখনও সংবেদনশীল, কখনও তীব্রঅভিনয়ের প্রতিটি পরিসরেই তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের কথায় উঠে আসে ভারতীয় নাট্যশাস্ত্রে বর্ণিত অভিনয়ের চারটি ধারার প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, ভরত মুনির কথিত অভিনয়ের বিভিন্ন রীতিকে যেন স্বতঃস্ফূর্ত ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভায় নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর অভিনয় শুধু চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত না, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি বাঙালির আত্মবিশ্বাসকেও আরও দৃঢ় করেছিল। তাঁর হাত ধরেই বাংলা ছবির নায়ক হয়ে উঠেছিল এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞান।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, একসময় দশকের পর দশক ধরে সিনেমার পর্দায় ছড়িয়ে থাকা উত্তমকুমারের নাক্ষত্রিক ব্যক্তিত্বই দর্শককে টেনে নিয়ে যেত সিনেমা হলের অন্ধকারে। সেই সময় সিনেমা দেখা মানেই ছিল উৎসব, আর উত্তমকুমার ছিলেন সেই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।আজ সেই সময় অনেকটাই ইতিহাস। যে শহর ও মফস্সলের অলিগলিতে একসময় একের পর এক সিনেমা হল ছিল, তার অধিকাংশই আজ হারিয়ে গিয়েছে। হারিয়েছে সেই পোস্টার, হারিয়েছে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন, হারিয়েছে প্রজেক্টরের আলোয় পর্দা জুড়ে মহানায়কের আবির্ভাবের সেই সম্মিলিত উচ্ছ্বাস। কিন্তু হারায়নি উত্তমকুমার।বরং সিনেমা হলের অস্তিত্ব ফিকে হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন আরও গভীরভাবে ঢুকে পড়েছেন বাঙালির স্মৃতিতে। এই পথ যদি না শেষ হয়শুধু একটি গানের দৃশ্য নয়, তা হয়ে উঠেছে বাঙালির রোম্যান্টিক কল্পনার এক চিরন্তন প্রতীক। তাঁর অভিনীত অসংখ্য দৃশ্য, তাঁর সংলাপ, তাঁর হাসি, তাঁর চোখের ভাষা, তাঁর চলনআজও অজান্তেই ভেসে ওঠে আমাদের স্মৃতির পর্দায়।প্রযুক্তির বদল এসেছে। সিনেমা এখন মোবাইলের পর্দায়, অ্যানিমেশন ও রিলের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও অ্যানিমেশন, রিল এবং বিভিন্ন আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করে শিল্প ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করার নানা সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে উত্তমকুমারের মতো সাংস্কৃতিক আইকনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথও আজ আরও বিস্তৃত।তবে মাধ্যম বদলালেও উত্তমকুমারের আবেদন বদলায়নি। কারণ তাঁর জনপ্রিয়তার ভিত্তি কোনও প্রযুক্তি নয়, কোনও নির্দিষ্ট সময়ও নয়তা মানুষের আবেগে নির্মিত।তাই জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমারকে ফিরে দেখা মানে শুধু একজন অভিনেতাকে স্মরণ করা নয়। ফিরে দেখা বাঙালির এক হারিয়ে যাওয়া সময়কে, সিনেমা হলের সেই অন্ধকারে জ্বলে ওঠা আলোকে, পর্দায় মহানায়কের আবির্ভাবে দর্শকের উচ্ছ্বাসকে এবং ভালোবাসার সেই ভাষাকে, যা প্রজন্ম পেরিয়েও পুরনো হয় না।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই নিছক এক শতবর্ষ উদ্যাপন নয়। এটি বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্মৃতির এক দীর্ঘ যাত্রা।যে যাত্রার পথ আজও শেষ হয়নি।হয়তো কোনওদিন শেষও হবে না।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদা স্টেশনে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক, বাতিল কিছু লোকাল ট্রেন, আগে পড়ুন এই খবর

শিয়ালদা স্টেশনে অত্যাবশ্যকীয় ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার জন্য শিয়ালদা ডিভিশনে শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর এবং রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যবর্তী রাতে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক থাকবে।এই ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০০:০০ ঘণ্টা থেকে ০৭:০০ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদা স্টেশনে DN/Main লাইনের KM 0/17L থেকে KM 0/19M-এর মধ্যে পয়েন্ট নং 208A/209B-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। এর অধীনে বিদ্যমান ৫২ কেজি DSS-কে ৬০ কেজি DSS-এ রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি সমস্ত ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিং-এর ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে।যাত্রীদের অসুবিধা যাতে সর্বনিম্ন রাখা যায়, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে সপ্তাহান্তের গভীর রাত ও ভোরের সময় এই কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট দলগুলি সাইটে মোতায়েন থাকবে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করা যায়।ট্রাফিক ব্লকের সময় কিছু সিগন্যালিং ও ট্রেন চলাচলও প্রভাবিত হবে। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্র্যাক সার্কিটে পরিবর্তন করা হবে এবং ব্লকের সময় লাইন নং ৬ ও লাইন নং ১১-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট প্রভাবিত থাকবে।পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ন্যূনতম সংখ্যক শহরতলির ট্রেন পরিষেবা বাতিল থাকবে এবং কিছু ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশনে শর্ট-টার্মিনেট করা হবে।*বাতিল হওয়া ট্রেন পরিষেবাগুলি হল:* শিয়ালদহাবরা: 33651, 33653 UP / 33652, 33654 DN শিয়ালদাকল্যাণী সীমান্ত: 31311 UP, 31313 UP / 31312, 31314 DN শিয়ালদাডানকুনি: 32213 UP, 32215, 32217 UP / 32214, 32216, 32218 DN শিয়ালদারানাঘাট: 31615 UP / 31620 DN শিয়ালদাহাবরা: 31213 UP / 31214 DN শিয়ালদাবারাসাত: 33431 UP / 33432 DN শিয়ালদাদত্তপুকুর: 33613 UP / 33618 DNএছাড়াও, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে 53172 DN (লালগোলাসিয়ালদহ) ট্রেনটি দমদম জংশন (DDJ)-এ শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। পরবর্তীতে ট্রেনটির খালি রেক উপযুক্তভাবে শিয়ালদায় নিয়ে আসা হবে।এই প্রসঙ্গে শিয়ালদার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানান, কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের সংশ্লিষ্ট দলগুলির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের পরিবর্তিত ট্রেন পরিষেবা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য শিয়ালদা স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।পয়েন্ট কনভার্সনের এই কাজটি ট্র্যাক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন। এর ফলে কিছু ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও, যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস না করে বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।যাত্রীদের ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যাত্রার আগে নিজেদের যাত্রা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করার এবং সর্বশেষ ট্রেন পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সুষ্ঠু ট্রেন চলাচলের বৃহত্তর স্বার্থে এই কাজ করা হচ্ছে। সাময়িক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য সিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সীতাভোগ-মিহিদানার শহর বর্ধমানে খাদ্য দফতরের হানা, কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা?

মিষ্টির জন্য বিখ্যাত বর্ধমান। এই শহরের সীতাভোগ ও মিহিদানার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। শক্তিগড়ের ল্যাংচারও যথেষ্ট নামডাক আছে। কিন্তু কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা? খাদ্য দফতরের অভিযানে বেরিয়ে এল বর্ধমানের মিষ্টির দোকানের কঙ্কালসার চেহারা। একের পর এক দোকান মেয়াদ উত্তীর্ণ দ্রব্যসামগ্রী রাখছে। এই তালিকায় নামীদামী দোকানও আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে খাবারের গুণমান নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও মিষ্টির দোকান, হোটেল ও খাবারের প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অভিযান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বুধবার পূর্ব বর্ধমানের সদর শহর বর্ধমানে একাধিক নামী মিষ্টির দোকানে হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। অভিযানে বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির উদ্ধারের পাশাপাশি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া আইসক্রিম ও নরম পানীয়ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দফতর সূত্রে দাবি।সীতাভোগ-মিহিদানার জন্য পরিচিত বর্ধমান শহরে এদিনের অভিযান শুরু হয় বর্ধমান পুরসভার সামনের একটি নামী মিষ্টির দোকান থেকে। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। দোকানে তল্লাশি চালানোর সময় বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনিরের সন্ধান মেলে। উদ্ধার হওয়া ওই পনির নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পনির বিক্রি বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে।এরপর বি বি ঘোষ রোডের আরও একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানে অভিযান চালানো হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। শুধু মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধারই নয়, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত রং, মশলা, ঘি-সহ একাধিক সামগ্রীর নমুনাও সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। একটি দোকান থেকে ঘির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে কোনও ধরনের গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।বর্ধমান শহরের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য এলাকাতেও চলছে এই নজরদারি। মঙ্গলবার শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাব এবং সংলগ্ন বিভিন্ন খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। বুধবারও পূর্ব বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে আমড়া এলাকার একাধিক হোটেলে পরিদর্শন করেন ফুড সেফটি অফিসাররা।আমড়ার একটি হোটেল পরিদর্শনের পর ফুড সেফটি অফিসার প্রদীপ্ত মণ্ডল জানান, সেখানে কোনও অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত খাদ্যসামগ্রীরও মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি। তবে হোটেলের ভিতরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে আপত্তি জানায় দফতর। হোটেল মালিককে নোটিশ দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, বর্ধমানের নামী মিষ্টির দোকান ও বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানের উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা যথেষ্ট বেশি। ফলে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনেও পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং খাবারের প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

উত্তমের ঠোঁটে হেমন্তের কণ্ঠ—সুর আর অভিনয়ের সেই অলৌকিক রসায়ন

আজ ৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই দিনটি শুধুই একটি তারিখ নয়। এই দিনেই জন্মেছিলেন সেই মানুষটি, যাঁকে বাঙালি আজও ভালোবেসে মহানায়ক বলে ডাকেউত্তমকুমার।রূপোলি পর্দায় তাঁর হাসি, চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি কিংবা নিছক নীরব উপস্থিতিসবকিছুই একসময় বাঙালির আবেগের অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু উত্তমকুমারের সেই পর্দার জাদুকে আরও কয়েক গুণ গভীর করে তুলেছিল একটি কণ্ঠ।সে কণ্ঠ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের।উত্তমকুমারের ঠোঁটে হেমন্তের গানবাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করেছে, যেখানে দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগত না, কে গান গাইছেন? বরং মনে হতোউত্তমই যেন গানটি গাইছেন।এটাই ছিল উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্কের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক। একজন ছিলেন অভিনয়ের সম্রাট, অন্যজন কণ্ঠ ও সুরের জাদুকর। অথচ তাঁদের দুজনের কণ্ঠস্বরের মডুলেশন, উচ্চারণ, আবেগ এবং শব্দের ভেতরের নাটকীয়তার এমন আশ্চর্য মিল ছিল যে, পর্দায় হেমন্তের কণ্ঠ হয়ে উঠত উত্তমেরই আরেকটি পরিচয়।উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন হেমন্তবাংলা সিনেমায় প্লেব্যাক গান শুধু গান নয়। পর্দার অভিনেতার চরিত্র, আবেগ, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে গায়ককে একাত্ম হতে হয়। উত্তমকুমারের ক্ষেত্রে এই কাজটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এমনভাবে করেছিলেন যে, পরবর্তীকালে তাঁদের যুগলবন্দি বাংলা চলচ্চিত্রের নিজস্ব এক ঘরানা হয়ে দাঁড়ায়।শাপমোচন-এর গান থেকে শুরু করে হারানো সুর, ইন্দ্রাণী, মরুতীর্থ হিংলাজএকাধিক ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠ উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় যে, গান শেষ হওয়ার পরও দর্শকের মনে থেকে যেত উত্তমের মুখ আর হেমন্তের কণ্ঠদুটো আলাদা করে ভাবা যেত না।সুরের আকাশে তুমি যে গো শুকতারা, ঝড় উঠেছে বাউল বাতাসএই গানগুলির জনপ্রিয়তার পেছনে সুর বা কথা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ছিল উত্তমের অভিনয় এবং হেমন্তের কণ্ঠের সেই অসাধারণ সামঞ্জস্য।হেমন্তের গলায় ছিল এক ধরনের গভীরতা, বিষণ্ণতা এবং সংযত আবেগ। উত্তমের অভিনয়ের মধ্যেও ছিল ঠিক সেই সংযত আবেগের প্রকাশ। তিনি কখনও অতিরিক্ত অভিনয় করতেন না; চোখের দৃষ্টি, ঠোঁটের সামান্য নড়াচড়া কিংবা মুখের অভিব্যক্তিতেই অনেক কথা বলে দিতেন।ফলে হেমন্ত যখন গাইতেন, তাঁর কণ্ঠের আবেগকে উত্তম পর্দায় এমনভাবে ধারণ করতেন যে গানটি আর শুধু প্লেব্যাক থাকত নাতা হয়ে উঠত উত্তমের চরিত্রের অন্তরের ভাষা।প্রথম পরিচয় কি শাপমোচন-এ?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রথম পরিচয় নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি আকর্ষণীয় বিতর্ক রয়েছে।সাধারণভাবে বলা হয়, ১৯৫৫ সালে শাপমোচন ছবির সময় থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্কের সূত্রপাত। কিন্তু গবেষক সুশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেই ১৯৫১ সালের সহযাত্রী ছবিতে হেমন্ত নাকি উত্তমের জন্য গান গেয়েছিলেন। তর্কের খাতিরে ১৯৫৫ সালে শাপমোচন কেই মেনে নেওয়া যায়, তাহলে সেই সিনেমার ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস গানে যে ঝড় বাংলা সিনেমার আকাশে উঠেছে আজও তার রেশ রয়ে গেছে।সমস্যা হল, সহযাত্রী-র সমস্ত প্রিন্ট আজ আর পাওয়া যায় না। ফলে সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। তাই ইতিহাসের নিশ্চিত দলিল হিসেবে শাপমোচন-কেই তাঁদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে ধরা হয়। আর সেই সূচনা যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, তা পরবর্তী কয়েক দশকের বাংলা সিনেমাই প্রমাণ করেছে।সলিল-হেমন্ত এবং উত্তমএকই সময়ের তিন উত্থানএই গল্পের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক রয়েছে। ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে একদিকে সলিল চৌধুরী গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের গান লিখছেন, সুর করছেন। অন্যদিকে তরুণ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজের কণ্ঠের পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন।১৯৪৭ সালে সলিলের লেখা ও সুর করা গাঁয়ের বধূ হেমন্তের কণ্ঠে এক ঐতিহাসিক সৃষ্টি হয়ে ওঠে।অন্যদিকে একই সময় চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করার জন্য সংগ্রাম করছেন অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। একের পর এক ছবি ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁকে কেউ কেউ ফ্লপ মাস্টার বলেও ঠাট্টা করছেন।কিন্তু ভাগ্য তখন অন্য গল্প লিখছিল।বসু পরিবার, সাড়ে চুয়াত্তর এবং অগ্নিপরীক্ষাপরপর তিনটি ছবির সাফল্যের পর অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠলেন উত্তমকুমার।অর্থাৎ, বাংলা সংস্কৃতির এক অসাধারণ যুগে প্রায় একই সময়ে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং উত্তমকুমার।শাপমোচন: যে ছবিতে তৈরি হল ইতিহাসশাপমোচন-এর সঙ্গীত পরিচালনার জন্য প্রথমে সুধীর মুখোপাধ্যায়ের পছন্দ ছিলেন শচীন দেববর্মণ। কিন্তু তাঁর অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পান হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তখন হেমন্ত ছিলেন বম্বেতে। কলকাতায় ফেরার একটি সুযোগও তিনি খুঁজছিলেন। ফলে শাপমোচন শুধু একটি চলচ্চিত্রের কাজ ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল হেমন্তের কলকাতায় প্রত্যাবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। আর সেই ছবিতেই তৈরি হল উত্তম-হেমন্তের সেই সুরেলা রসায়ন, যা পরবর্তী সময়ে বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত স্বাক্ষর হয়ে দাঁড়ায়। হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্ব যেন নতুন মাত্রা পেল।আশ্চর্য মিল শুধু গানে নয়, কথার কণ্ঠেও!উত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের সবচেয়ে চমকপ্রদ অজানা তথ্যগুলির একটি লুকিয়ে রয়েছে হারানো সুর ছবিতে। সাধারণত আমরা ভাবি, একজন অভিনেতার মুখের সঙ্গে গায়কের গলা মেলানোই প্লেব্যাকের সাফল্য। কিন্তু উত্তম ও হেমন্তের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল। হারানো সুর-এর একটি দৃশ্যে উত্তমের চরিত্রকে সুচিত্রা সেনের চরিত্রকে নাম ধরে ডাকতে হয়। ডাবিংয়ের সময় কোনও কারণে উত্তমকুমার উপস্থিত ছিলেন না। সেই সংলাপটি দেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়!ফল?দর্শকের কাছে তা আলাদা করে বোঝাই যায়নি। হেমন্তের কথা বলার গলার সঙ্গে উত্তমের কণ্ঠের এমন মিল ছিল যে, সেই সংলাপ ছবির অন্যান্য সংলাপের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মিশে যায়। এ যেন প্রমাণ করেশুধু গানেই নয়, কথার মডুলেশনেও হেমন্ত ছিলেন উত্তমের এক অদ্ভুত ভয়েস ডাবল।তারে বলে দিওএক যুগের শেষের ইঙ্গিত?১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া দুই ভাই ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠে তারে বলে দিও শ্রোতাদের কাছে আজও স্মরণীয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই সময় থেকেই ধীরে ধীরে উত্তমকুমারের প্লেব্যাকে হেমন্তের ব্যবহার কমতে শুরু করে। হেমন্ত অবশ্য উত্তমের ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন। কিন্তু উত্তমের ঠোঁটে তাঁর কণ্ঠের সেই আগের অবাধ উপস্থিতি আর থাকল না। ক্রমশ উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠলেন অন্যরাওশ্যামল মিত্র, মান্না দে প্রমুখ।তবুও উত্তমের সঙ্গে হেমন্তের কণ্ঠের যে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, তা এতটাই গভীর ছিল যে, অন্য গায়কের কণ্ঠ শুনলে দর্শকের একটা অংশের মনে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা চলে আসত।সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদসুরের অন্য অধ্যায়উত্তম-হেমন্ত সম্পর্ককে শুধুমাত্র প্লেব্যাকের মধ্যে আটকে রাখলে ভুল হবে। সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদ, সাথীহারা সহ উত্তমকুমারের একাধিক ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীত-অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, হেমন্ত কখনও উত্তমের কণ্ঠ হয়ে গান গেয়েছেন, কখনও তাঁর ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। ফলে তাঁদের পেশাগত সম্পর্ক ছিল বহুমাত্রিক। একজন অভিনেতা হিসেবে উত্তম যেমন হেমন্তের কণ্ঠের শক্তিকে বুঝতেন, তেমনই একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে হেমন্তও বুঝতেন উত্তমের অভিনয়-ব্যক্তিত্বকে। এই বোঝাপড়াটিই তাঁদের কাজকে এত স্বাভাবিক করে তুলেছিল।মহিষাসুরমর্দিনীর বিকল্প অনুষ্ঠানেও হেমন্তের ভূমিকাউত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের আরও একটি কম-আলোচিত ঘটনা জড়িয়ে আছে মহালয়ার সঙ্গে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী বাঙালির মহালয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু একসময় আকাশবাণী সেই অনুষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে দেবী দুর্গতিহারিণী আয়োজন করেছিল। জানা যায়, উত্তমকুমার সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে প্রথমে রাজি ছিলেন না। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে অনুরোধ ও আশ্বাস না দিলে তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হতেন না। পেশাগত সহযোগিতার বাইরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত আস্থাও তৈরি হয়েছিল।তবে সব সম্পর্কেই কি শুধু মধুরতা থাকে?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়েও পরবর্তী সময়ে নানা গল্প ছড়িয়েছে। কোনও কোনও সূত্রে তাঁদের মধ্যে অভিমান, মনোমালিন্য কিংবা বচসার কথা বলা হয়েছে। একটি কাহিনিতে উত্তম ও গৌরী দেবীর বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা উঠে আসে। আবার আরও একটি বহুল প্রচলিত গল্পে অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে উত্তম ও হেমন্ত পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের কথা বলা হয়।তবে এই কাহিনিগুলির নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফলে এগুলিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ঠিক হবে না। বরং তাঁদের সম্পর্কের যে অংশটি নথিবদ্ধ এবং শিল্পের ইতিহাসে অমোচনীয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তিগত অভিমান থাকলেও তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান মুছে যায়নি।উত্তমের প্রয়াণহেমন্তের নীরবতার রহস্য১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই উত্তমকুমারের আকস্মিক প্রয়াণে গোটা বাংলা যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একটি বিষয় অনেকের নজরে পড়েছিলহেমন্ত মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন উত্তমের মৃত্যু নিয়ে প্রকাশ্যে বিশেষ মন্তব্য করেননি।কেন?তার উত্তর হয়তো তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল। পরবর্তী জীবনে এক সাক্ষাৎকারে হেমন্ত বলেছিলেন, উত্তম তাঁর সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর নিজের অন্তরের একটি বিরাট অংশ। একটি সম্পর্কের গভীরতা বোঝার জন্য এর চেয়ে বড় স্বীকারোক্তি আর কী হতে পারে?একই আকাশের দুই নক্ষত্রউত্তমকুমার চলে গেলেন ১৯৮০ সালে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় চলে গেলেন ১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর।দুজনের জীবনের শেষ অধ্যায় আলাদা হলেও বাংলা সংস্কৃতির স্মৃতিতে তাঁরা আজও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন।উত্তমের মুখে হেমন্তের গান শুনলে আজও মনে হয় গানটি যেন হেমন্ত গাইছেন না, উত্তম নিজেই গাইছেন।আসলে এখানেই তাঁদের সম্পর্কের সাফল্য।একজনের কণ্ঠ অন্যজনের অভিনয়ের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিল যে, দর্শক গায়ককে ভুলে গিয়ে চরিত্রের অনুভূতিটাকেই অনুভব করতেন।হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের প্রেম, বিরহ, অভিমান, আনন্দ কিংবা বিষণ্ণতাসবই যেন আরও সত্যি হয়ে উঠত।জন্মদিনে মহানায়ককে ফিরে দেখাআজ উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করার অসংখ্য পথ রয়েছে। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী ছবি আছে, আছে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর অমর জুটি, আছে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তার ইতিহাস।কিন্তু উত্তমকে নতুন করে অনুভব করার একটি সহজ পথ এখনও আছেচোখ বন্ধ করে তাঁর ঠোঁটে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান শুনুন।তখন হয়তো বোঝা যাবে, কেন কয়েক দশক পরেও উত্তম-হেমন্তের যুগলবন্দি বাঙালির স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।কারণ সেটি নিছক একজন অভিনেতার জন্য একজন গায়কের গান ছিল না।সেটি ছিলঅভিনয় ও সুরের মিলন।মুখ ও কণ্ঠের মিলন।তারকা ও গায়কের মিলন।আর শেষ পর্যন্তদুই মহান শিল্পীর এক আত্মিক সংলাপ।উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মনে পড়ে যায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেই কণ্ঠও।যে কণ্ঠ একসময় উত্তমের ঠোঁটে প্রাণ পেয়েছিল।আর সেই কারণেই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও একটি কথা সত্যি হয়ে আছেউত্তমের মুখে হেমন্তের গানএ যেন উত্তমকুমারেরই আর-একটি কণ্ঠ।জীবন খাতার প্রতি পাতায়যতই লেখো হিসাব নিকাশকিছুই রবে নালুকোচুরির এই যে খেলায়প্রাণের যত দেয়া নেয়াপূর্ণ হবে না।পাতার পর পাতা ফুরিয়ে যায়, শব্দের পর শব্দ নিঃশেষ হয়ে আসেতবু উত্তম-হেমন্তের সেই অনন্য রসায়নকে সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করা বোধহয় অসম্ভব।কারণ তাঁদের সম্পর্ক শুধু পর্দায় গাওয়া কিছু গানের সমীকরণ ছিল না; ছিল কণ্ঠ আর অভিনয়ের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন। উত্তম কুমারের ঠোঁটে যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ ভেসে উঠত, মনে হতোএকজন অভিনয় করছেন, আর অন্যজন তাঁর মনের কথাগুলো গেয়ে চলেছেন। যেন দুটি মানুষ নন, একই অনুভূতির দুই ভিন্ন প্রকাশ।তাঁদের গান লেখা যায়, গান গাওয়ার ইতিহাস বলা যায়, সিনেমার দৃশ্যের কথা বলা যায়কিন্তু সেই অনুভূতিটুকু ভাষায় ধরা যায় না।উত্তম-হেমন্তকে তাই ব্যাখ্যা করা যায় নাশুধু অনুভব করা যায়।কোনও এক নিঃশব্দ সন্ধ্যায় পুরনো রেকর্ডে - এই পথ যদি না শেষ হয়..., আর চোখের সামনে ভেসে উঠলে উত্তমকুমারের সেই চিরচেনা মুখতখনই বোঝা যায়, কিছু রসায়ন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে না।তারা থেকে যায় মানুষের হৃদয়েসুরে, স্মৃতিতে, আর এক অমলিন ভালোবাসায়। উত্তম-হেমন্তের পথ শেষ হইয়াও শেষ হয় না।।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

ডিভিসির জল ছাড়ায় বাড়ছে বিপদ! ৫০ হাজার কিউসেক পেরিয়ে জল, এবার কি প্লাবনের আশঙ্কা?

টানা বৃষ্টির জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। তার জেরে দ্রুত বাড়ছে ডিভিসির বিভিন্ন জলাধারের জলস্তর। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইথন এবং পাঞ্চেত ড্যাম থেকে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ফলে দামোদর সংলগ্ন নিচু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইথন ড্যামের জলস্তর বর্তমানে ৪৮৪.২৫ ফুট। গত ২৪ ঘণ্টায় এই জলাধার থেকে গড়ে প্রায় ৬৪২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাঞ্চেত ড্যামের জলস্তর রয়েছে ৪১৪.১১ ফুট। সেখান থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৪৪ হাজার ৩৭০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে।দুই ড্যাম মিলিয়ে বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার ৭৯৫ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে দামোদর নদেও জলস্তর বাড়ছে। মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে দফায় দফায় ছাড়া জল পৌঁছচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারাজে।বুধবার সকাল পর্যন্ত দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে প্রায় ৯৭ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়লে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়তে পারে বলে সেচ দপ্তর সূত্রে খবর। সে ক্ষেত্রে নিম্ন দামোদর এলাকার একাধিক জায়গায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।ইতিমধ্যেই টানা বৃষ্টিতে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। কোথাও কোথাও জল জমে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। জাতীয় সড়কেও তার প্রভাব পড়েছে।এর মধ্যেই দুর্যোগের আরও একটি ছবি ধরা পড়েছে খনি অঞ্চলে। টানা বৃষ্টির জেরে পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুরের ৭ এবং ৯ নম্বর পিট এলাকায় আচমকা ধস নামে। লোকালয়ের একেবারে কাছে মাটি বসে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খনি আবাসনের কাছেই ধস নামায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই ওই এলাকায় লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। তার জেরেই আচমকা মাটি বসে ধস নেমেছে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ধসের জায়গায় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই এলাকায় এর আগেও ধস নেমেছিল। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৮ সালেও একই জায়গায় ধস হয়েছিল। সেই সময় ধসের জায়গাটি খনি কর্তৃপক্ষের তরফে যথাযথ ভাবে মেরামত করা হয়নি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে।বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র কুমার যাদবের অভিযোগ, খনি কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। দ্রুত ধসের জায়গা মেরামত করার পাশাপাশি গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।একদিকে ড্যাম থেকে বাড়ছে জল ছাড়ার পরিমাণ, অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে খনি এলাকায় ধসের ঘটনা। সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় দুর্যোগের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

টোল দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতায় ইডির হানা! শেক্সপিয়র সরণির আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে সকালেই তল্লাশি

জাতীয় সড়কের টোল আদায়ে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে বুধবার সকালে কলকাতায় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শেক্সপিয়র সরণির একটি আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের সাত রাজ্যের মোট ১৪টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে খবর।বুধবার সকালেই ছয় সদস্যের ইডির একটি দল শেক্সপিয়র সরণির ওই আবাসনে পৌঁছয়। যে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়, সেখানে ব্যবসায়ীর অফিসও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা আবাসনটি ঘিরে রাখেন। আচমকা এই তল্লাশি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কে টোল আদায় নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে এই সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই দেশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর।অভিযোগ, বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে জাতীয় সড়কে নিয়মের বাইরে টোল আদায় করা হত। অনুমোদিত নয় এমন টোলের রসিদ তৈরি করে গাড়িচালকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ। পরে সেই টাকা বিভিন্ন কৌশলে সরিয়ে ফেলা হত বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ।অভিযোগ আরও, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আলাদা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হত। ফলে সরকারি নথিতে সেই লেনদেনের সম্পূর্ণ তথ্য ধরা পড়ত না। এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।এই অভিযোগের তদন্তে নেমে ডিজিটাল নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। টোল থেকে আদায় করা বেআইনি টাকা কোথায় গিয়েছে, কারা সেই টাকার সঙ্গে যুক্ত এবং পুরো ব্যবস্থার নেপথ্যে আর কারা রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান-সহ সাতটি রাজ্যে একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোট ১৪টি জায়গায় তল্লাশি চলছে।তবে কলকাতার ব্যবসায়ীর সঙ্গে টোল দুর্নীতির অভিযোগের যোগসূত্র ঠিক কোথায়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শেক্সপিয়র সরণির ওই ফ্ল্যাট থেকে কী ধরনের নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়েও তদন্তকারীরা এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি। ফলে কলকাতায় এই তল্লাশির নেপথ্যে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
দেশ

নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ে ফের ছুটল ভারত! ৫.৫ টন ওষুধ আর ১১ উদ্ধারকারী নিয়ে উড়ল বায়ুসেনার বিমান

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ চার হাজারেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও বড় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। ৫.৫ টন প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী ওষুধ এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১ জনের উদ্ধারকারী দল নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার পঞ্চম বিমান।ভারতের তরফে আগে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী ইতিমধ্যেই নেপালের বিপর্যয়কবলিত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে। রসুয়ার শিবিরে সেই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পর নেপাল সেনার হাতে তা তুলে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকাজেও সহযোগিতা করছে ভারত।ইন্দো-নেপাল সীমান্তে উদ্ধারকাজে তৎপরতার সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র সীমা বলের প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইন্দো-নেপাল এবং ইন্দো-ভুটান সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে এই বাহিনী। বিপর্যয়ের সময় সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার ও সহযোগিতার কাজেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।২৬ অগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপালের হড়পা বানে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০০৩ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও চার হাজারেরও বেশি মানুষের কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে আরও কোনও ভারতীয় রয়েছেন কি না, সেই তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।বিপর্যয়ের পর মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং কোনও মৃত ব্যক্তি ভারতীয় হলে তাঁর দেহ কী ভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। স্বজনেরা কী ভাবে মৃতদেহ শনাক্ত করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মেনে কী ভাবে দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশিকা জানানো হয়েছে।নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, উষ্ণায়নের কারণে দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহের ভয়াবহ হড়পা বান সেই আশঙ্কারই নতুন করে বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জও সতর্ক করেছে।এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে ভারতের একের পর এক উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার তৎপরতায় বিপর্যস্ত নেপালের মানুষকে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal